দুই দলের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে কী আছে? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি - RANGPUR ICT PARK

Breaking

Home Top MAds ফাঁকা

Post Top Ad

07 February 2026

দুই দলের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে কী আছে? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশের রূপরেখাকে সামনে রেখে এই ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত (বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এই ইশতেহার ঘোষণা হয়

রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


জামায়াতের ইশতেহারে যা যা রয়েছেঃ

১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।

২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন।

৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া।

৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে বিনির্মণ।

৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।

৭. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূলো আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।

৮. ব‍্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খ্যাত সংস্কারের মাখায়ে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই এ স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ।

৯. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।

১২. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা।

১৩. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূনা ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা। বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া।

১৪. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি।

১৫. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

১৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

১৭. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয় বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

১৮. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

১৯. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।

২০. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা।

২১. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা।

২২. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জনা স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা।

২৩. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা।

২৪. সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

২৫. সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

২৬. সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।


ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস):
সবার আগে বাংলাদেশনীতি অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) । দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইশতেহার উন্মোচন করেন । এটি তার প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার 
অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলোয়াত দিয়ে, যেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ নেতাদের স্মরণে মোনাজাত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির বহু নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী 
ইশতেহার উন্মোচনে আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতসহ ৩৮ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন । সাংবাদিক, বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন 


বিএনপি তার ইশতেহারে মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনঃপ্রকাশ করেছে 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি । এই ইশতেহারের শ্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ । আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারে ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি । ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে 


বিএনপি ইশতেহার ৫১ দফাঃ

১. শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনামূল্যে শিক্ষার নিশ্চয়তা ।

২. স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন ও সকলের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা।

৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুবকদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি।

৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও দরিদ্রদের কল্যাণমূলক সহায়তা।

৫. ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালু।

৬. জনগণের কল্যাণে বহুমুখী সহায়তা কর্মসূচি।

৭. যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও নতুন কর্মসংস্থান।

৮. ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

৯. জাতি গঠনে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন।

১০. পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির তদন্ত।

১১. খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান।

১২. দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া।

১৩. মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন।

১৪. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করা।

১৫. নারী ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার।

১৬. ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

১৭. নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার।

১৮. সামাজিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

১৯. রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

২০. গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ।

২১. মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত।

২২. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও স্মৃতি রক্ষা।

২৩. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নামকরণ ও স্বীকৃতি।

২৪. শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত।

২৫. ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন।

২৬. সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত।

২৭. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।

২৮. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

২৯. উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিট ব্যবস্থা।

৩০. অর্থপাচার রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা।

৩১. শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৩২. জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত করা।

৩৩. উন্মুক্ত জনসভা ও তথ্যপ্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা।

৩৪. দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ।

৩৫. ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কার্ড।

৩৬. ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ও পেনশন ফান্ড গঠন।

৩৭. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নাগরিক সেবা।

৩৮. হতদরিদ্র ও এতিম শিশুদের কল্যাণে তহবিল।

৩৯. নারীর ক্ষমতায়ন ও বিনামূল্যে উচ্চ শিক্ষা।

৪০. কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত।

৪১. কৃষিঋণ মওকুফ ও ১০ হাজার টাকার সহায়তা।

৪২. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ।

৪৩. বেকারভাতা ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট।

৪৪. বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ।

৪৫. পররাষ্ট্রনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা।

৪৬. সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।

৪৭. অলিগার্কিক অর্থনীতি ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত।

৪৮. ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।

৪৯. পুঁজিবাজার ও ক্ষুদ্র-স্টার্টআপ খাতে উন্নয়ন ও ঋণ সুবিধা।

৫০. চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর কেন্দ্রিক লজিস্টিক হাব।

৫১. তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেট ও হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

Post Bottom Ad

WhatsApp Icon কি জানতে চান ?

শিরোনাম

শিরোনাম লোড হচ্ছে...
Contact Us
f
Facebook
YouTube
in
LinkedIn
📷
Instagram