নিপা ভাইরাসঃ কী, উৎপত্তি, সংক্রমণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ - RANGPUR ICT PARK

Breaking

Home Top MAds ফাঁকা

Post Top Ad

31 January 2026

নিপা ভাইরাসঃ কী, উৎপত্তি, সংক্রমণ, লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

 

নিপা ভাইরাস কী?
নিপা ভাইরাস (Nipah Virus – NiV) একটি মারাত্মক জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয় এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) সৃষ্টি করতে পারে নিপা ভাইরাসের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে খুব বেশি—প্রায় ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত হতে পারে, যা একে অত্যন্ত ভয়ংকর করে তুলেছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাসকে ভবিষ্যতে বড় মহামারির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে
 
নিপা ভাইরাসের উৎপত্তি
নিপা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯৮–১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায়মালয়েশিয়ার “সুনগাই নিপানামক এলাকার নাম অনুসারেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়
গবেষণায় দেখা যায়, নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হলো ফল খেকো বাদুড় (Fruit Bat বা Flying Fox)এসব বাদুড় নিজেরা অসুস্থ না হলেও তাদের লালা, মূত্র ও মলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে
বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অঞ্চলে প্রায় প্রতি বছরই নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়
 
নিপা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

নিপা ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান পথগুলো হলো—

১. বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে
  • খোলা জায়গায় রাখা খেজুরের কাঁচা রস পান করা
  • বাদুড়ে কামড়ানো বা তাদের লালা/মূত্রে দূষিত খাবার গ্রহণ
২. প্রাণী থেকে মানুষে
  • আক্রান্ত শূকর, গরু বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসা
  • অসুস্থ প্রাণীর রক্ত, শ্বাস বা দেহরসের মাধ্যমে
৩. মানুষ থেকে মানুষে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকা
  • কাশি, হাঁচি, লালা, থুথু বা শরীরের তরলের মাধ্যমে
  • হাসপাতালে চিকিৎসার সময় সুরক্ষা ছাড়া সংস্পর্শ
👉 বাংলাদেশে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি
 
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ
সংক্রমণের ৪–১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়
প্রাথমিক লক্ষণ
  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • শরীর ব্যথা
  • দুর্বলতা
  • বমি ভাব
গুরুতর লক্ষণ
  • শ্বাসকষ্ট
  • মানসিক বিভ্রান্তি
  • খিঁচুনি
  • অচেতন হয়ে যাওয়া
  • মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)
  • কোমা
অনেক ক্ষেত্রে রোগী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই গুরুতর অবস্থায় চলে যেতে পারে
 
নিপা ভাইরাসের টেস্ট বা পরীক্ষা
নিপা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব টেস্ট প্রয়োজন হয়—
প্রচলিত পরীক্ষা
  • RT-PCR Test (রক্ত, থুথু, প্রস্রাব বা CSF)
  • ELISA Test (অ্যান্টিবডি শনাক্ত)
  • ভাইরাল আইসোলেশন (উচ্চ নিরাপত্তা ল্যাব)
👉 সাধারণ হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই টেস্ট হয় না সরকারি বিশেষ ল্যাবে করা হয়
 
নিপা ভাইরাসের চিকিৎসা
বর্তমানে নিপা ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই
চিকিৎসা পদ্ধতি
  • লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা (Supportive Care)
  • অক্সিজেন থেরাপি
  • আইসিইউ সাপোর্ট
  • খিঁচুনি ও জ্বর নিয়ন্ত্রণ
  • পানিশূন্যতা রোধ
যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, বাঁচার সম্ভাবনা তত বেশি
 
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়
ব্যক্তিগত সতর্কতা
  • কাঁচা খেজুরের রস পান না করা
  • খোলা খাবার না খাওয়া
  • অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা
  • মাস্ক ব্যবহার করা
  • হাত বারবার সাবান দিয়ে ধোয়া
খাদ্য নিরাপত্তা
  • ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
  • বাদুড় বসতে পারে এমন জায়গার খাবার পরিহার
স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য
  • PPE ব্যবহার
  • আইসোলেশন ব্যবস্থা
  • সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রোটোকল মেনে চলা
 
নিপা ভাইরাস হলে করণীয়
যদি নিপা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়—
1.    দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন
2.    রোগীকে আলাদা রাখুন
3.    পরিবারের সবাই মাস্ক ব্যবহার করুন
4.    রোগীর ব্যবহার্য জিনিস আলাদা রাখুন
5.    গুজব নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
 
নিপা ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশে সচেতনতা কেন জরুরি?
বাংলাদেশে—
  • খেজুরের কাঁচা রস জনপ্রিয়
  • গ্রামীণ এলাকায় বাদুড়ের বসবাস বেশি
  • জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি
এই কারণগুলো নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ায় তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধই একমাত্র সুরক্ষা
 
উপসংহার
নিপা ভাইরাস একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী সংক্রমণ হলেও সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব কাঁচা খাবার পরিহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে
 

Post Bottom Ad

WhatsApp Icon কি জানতে চান ?

শিরোনাম

শিরোনাম লোড হচ্ছে...
Contact Us
f
Facebook
YouTube
in
LinkedIn
📷
Instagram