চলতি মৌসুম থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না কীভাবে অনলাইনে রিটার্ন দেবেন। তাই অনলাইন রিটার্ন জমার জন্য করদাতাদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগ্রহী করদাতারা অনলাইনে এই প্রশিক্ষণের নিবন্ধন করতে পারবেন। কর আইনজীবীরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।
এবার দেখা যাক, প্রশিক্ষণে আগ্রহীরা কীভাবে নিবন্ধন করবেন। প্রশিক্ষণে আগ্রহীদের আবেদন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট লিংক আছে। লিংকটি হলো— https://nbr.gov.bd/form/e-return-training/eng Link
এই লিংকে প্রবেশ করে করদাতা নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, প্রশিক্ষণ নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ দিতে হবে। এরপর সাবমিট করতে হবে। পরে এনবিআর থেকে ই-মেইলে প্রশিক্ষণের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকে ব্যাচভিত্তিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনের মাল্টিপারপাস হলে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন কর কর্মকর্তারা। ই-রিটার্ন প্রশিক্ষণের তারিখ ও সময় সব আগ্রহী করদাতা এবং কর আইনজীবীদের নিজ নিজ ই–মেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ই-রিটার্ন চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকেরা ছাড়া দেশের সব করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গতবার ১৭ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দেন।
ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন তৈরি ও জমা দেওয়া যাবে; আবার কর পরিশোধও করা যাবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো করদাতা রিটার্ন জমার পাশাপাশি কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া একই অনলাইন ব্যবস্থা থেকে দাখিল করা রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন করদাতা।
আয়কর রিটার্নে যে ভুল বেশি হয়, ভুলগুলো কী কীএ
বছর সাড়ে ৪২ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন । এবার অফলাইনে বা
সনাতনি পদ্ধতিতে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ ছিল না ।অনলাইনে
রিটার্ন দেওয়ার সময় অনেক করদাতা ভুল করেছেন, যা ভবিষ্যতে সমস্যায় ফেলতে পারে
। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা
গেছে । অনেকে শূন্য রিটার্ন জমা দেন,
এটিও ঠিক নয় । করযোগ্য আয় থাকলে অবশ্যই এর ওপর কর দিতে হবে ।বর্তমানে
১ কোটি ২৮ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন । এর মধ্যে সাড়ে ৪২
লাখ করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন । প্রায় ৮৫ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দেননি । এবার
দেখা যাক, করদাতারা
সাধারণত কী ধরনের ভুল বেশি করেন১.
অতিরঞ্জিতভাবে সোনা দেখানো। যেমন অনেকেই ৪০–৫০ ভরি সোনা দেখান। বর্তমান বাজারদরে
এই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়নার দাম কোটি টাকার বেশি । কিন্তু করদাতার আয় ও সামাজিক
অবস্থানের সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ নয় ।২.
রিটার্নে মাত্রাতিরিক্তি নগদ টাকা দেখান অনেকে । এতেও আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকলে
এই নগদ টাকা নিয়ে বিপাকে পড়বেন ।৩.
বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো সঞ্চয় দেখানো হয় না। আবার টাকা ধার নেওয়া ও দেওয়া দেখান না
অনেকে ।৪.
উপহারসহ অন্যান্য সামগ্রী আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় না ।৫.
বছর শেষে যে নিট সম্পদ দাঁড়ায়,
তা ভুলভাবে রিটার্নে উপস্থাপন করা হয়। অনেকে কম দেখান ।৬.
সিটি কর্পোরেশনসহ অভিজাত এলাকায় জায়গা থাকলে দেখানো হয় না ।৭.
বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নেওয়ার জন্য ভুল জায়গায় বিনিয়োগ করার তথ্য দেন অনেকে ।৮.
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো হয় ।৯.
বিবাহিত ও সংসারের কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও খরচ একদমই না দেখানো ।১০.
এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র
ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও তা আয়কর রিটার্নে না দেখানো । মনে
রাখতে হবেআপনি
প্রথমবার আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ
অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে । এসব সম্পদের সপক্ষে
যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন ।
সুত্রঃ প্রথম আলো
এই লিংকে প্রবেশ করে করদাতা নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, প্রশিক্ষণ নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ দিতে হবে। এরপর সাবমিট করতে হবে। পরে এনবিআর থেকে ই-মেইলে প্রশিক্ষণের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকে ব্যাচভিত্তিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনের মাল্টিপারপাস হলে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন কর কর্মকর্তারা। ই-রিটার্ন প্রশিক্ষণের তারিখ ও সময় সব আগ্রহী করদাতা এবং কর আইনজীবীদের নিজ নিজ ই–মেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ই-রিটার্ন চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকেরা ছাড়া দেশের সব করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গতবার ১৭ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দেন।
ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন তৈরি ও জমা দেওয়া যাবে; আবার কর পরিশোধও করা যাবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো করদাতা রিটার্ন জমার পাশাপাশি কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া একই অনলাইন ব্যবস্থা থেকে দাখিল করা রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন করদাতা।
