
সম্প্রতি অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের জ্বর ও শরীরে র্যাশ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে ভিড় করছেন। পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, এই শিশুদের অনেকেরই হাম (Measles) শনাক্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং কিছু শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
হাম কী?
হাম মূলত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।
- উচ্চমাত্রার জ্বর
- কাশি
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ
হামের জটিলতা
- নিউমোনিয়া
- মারাত্মক ডায়রিয়া
- চোখের ক্ষতি বা অন্ধত্ব
- কানপাকা
- মুখে ঘা
- অপুষ্টি
- মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis)
কীভাবে হাম ছড়ায়
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। এটি সাধারণত ছড়ায় হাঁচি, কাশি বা আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে। একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে প্রায় ৯০% পর্যন্ত সম্ভাবনা থাকে অন্য শিশু আক্রান্ত হওয়ার।
হামের টিকা
বাংলাদেশে শিশুদের দেওয়া হয় MR (Measles Rubella) টিকা:
- ৯ মাস বয়সে – প্রথম ডোজ
- ১৫ মাস বয়সে – দ্বিতীয় ডোজ
টিকা নেওয়ার পরও হাম হচ্ছে কেন?
- অনেক শিশু এখনো টিকা নেয়নি বা এক ডোজ নিয়েছে
- টিকাকেন্দ্রে না যাওয়ার কারণে টিকা মিস হয়েছে
- কিছু ক্ষেত্রে শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি
হাম হলে কী করবেন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখুন।
- পর্যাপ্ত তরল খাবার: পানি, বুকের দুধ, স্যুপ, ডাবের পানি।
- পুষ্টিকর খাবার: খিচুড়ি, স্যুপ, নরম ভাত ও ডাল।
- জ্বর নিয়ন্ত্রণ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: চোখ, নাক পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়া।
- ভিটামিন A: ডাক্তার পরামর্শমতো ব্যবহার।
- আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা: অন্তত ৭–১০ দিন অন্য শিশুদের থেকে।
বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে
শিশুর মধ্যে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন:
- শ্বাসকষ্ট
- বারবার বমি
- খিঁচুনি
- খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত ঘুম বা নিস্তেজ হয়ে পড়া
- চোখের সমস্যা
সচেতন অভিভাবকের করণীয়
- সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করুন
- টিকার ডোজ মিস হলে দ্রুত নিন
- অসুস্থ শিশুকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিন
- পুষ্টিকর খাবার দিন
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
একজন সচেতন মা-বাবা মানেই একটি সুরক্ষিত শিশু। আজকের একটি ছোট সিদ্ধান্তই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে পারে।
