গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়, স্থান ও ধরন নিয়ে যেসব তথ্য জানা দরকার । Right time and place for tree planting - RANGPUR ICT PARK

Breaking

Home Top MAds ফাঁকা

Post Top Ad

12 July 2025

গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়, স্থান ও ধরন নিয়ে যেসব তথ্য জানা দরকার । Right time and place for tree planting


গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়, স্থান ও ধরন নিয়ে যেসব তথ্য জানা দরকারঃ 
 
পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চারিদিকে চলছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি । জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময় । তাই সঠিক স্থানে সঠিক চারা রোপনের সময় এখনই । জেলা ও উপজেলা বৃক্ষমেলা কিংবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা যায় । সুস্থ, সবল, মধ্যমাকৃতির, পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দেয়া উচিত । এতে ফল, ঔষধ এবং কাঠ সবই পাওয়া যায় । বন্যামুক্ত, আলোবাতাস চলাচল করতে পারে এবং সূর্যালোক পড়ে এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত । দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ, উর্বর, নিষ্কাশনযোগ্য ও উঁচু স্থানে চারা রোপণ করা উত্তম । কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত তা জেনে নেই ।
 
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেঃ
যেমন- মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশেপাশে শোভাবর্ধনকারী এবং ছায়া দানকারী গাছ যেমন, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, আম, কাঁঠাল, লিচু গাছ রোপণ করতে পারেন ।
 
বসতবাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বেঃ
রোদ ও আলোর জন্য ছোট এবং কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে ।  সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী, গাছ লাগানো যেতে পারে ।
 
বসতবাড়ির পূর্ব-পশ্চিমেঃ
মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল-সন্ধ্যায় বাড়ির আঙ্গিনায় আলো থাকবে । বাউকুল, আপেলকুল, সফেদা, আম্রপালি, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছ ।
 
বসতবাড়ির উত্তরেঃ বসতবাড়ির উত্তরপাশে বড় ও উঁচু গাছপালা থাকলে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হয় । এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, বাঁশ, ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায় ।
 
পতিত জমিতেঃ
সব ধরনের গাছ যেমন- আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি ।
 
হাট-বাজারেঃ
ছায়দানকারী গাছ রোপণ করা উচিত । আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃষ্ণচূড়া, বটগাছ রোপণ করা উচিত ।
 
রাস্তার পাশেঃ
উঁচু, ও ডালপালা ছাঁটাই করা যায় এমন গাছ রোপণ করা দরকার । মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, ইপিল ইপিল, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায় । গাঁয়ের পথের দুধারে বা ফিডার রোডের পাশে শিশু, নিম, দেবদারু, চম্পা, ইপিল ইপিল, পাইন্যাগোলা বা লুকলুকি, মান্দার, পালিত মাদার, পানিয়া মাদার, বাবলা, খয়ের, বকফুল, তাল, খেজুর ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে। বড় রাস্তা বা মহাসড়কের পাশে কৃষচূড়া, কনকচূড়া, রেইনট্রি, গগন শিরীষ, রাজকড়ই, শিলকড়ই, শিশু, মেহগনি, অর্জুন, দেবদারু, সোনালু, নিম, নাগেশ্বর, আকাশমণি, বকুল, পলাশ, তেলসুর, ঝাউ, বটল পাম প্রভৃতি গাছ লাগানো যায় ।

রেল লাইনের পাশেঃ
মেহগনিশিশুসেগুনআকাশমণিদেবদারুনারিকেলসুপারিখেজুরনিমপামশিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায় ।

 
বাঁধের ধারেঃ শেকড় শক্ত এবং বিস্তৃত এমন গাছ যেমন বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর ইত্যাদি গাছ রোপণ করা দরকার ।
 
জমির আইলেঃ যেসব গাছের শেকড় কম বিস্তৃত কম ছায়াদানকারী, ডালপালা ছাঁটাই করা যায় যেমন- মেহগনি, দেবদারু ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে হবে । আজকাল জমির ভেতরেও গাছ লাগানো হচ্ছে । এ ক্ষেত্রে অনেকেই ইউক্যালিপটাসকে বেছে নিয়েছেন । ফসলের ক্ষেতে দূরে দূরে অল্প কিছু এরূপ গাছ লাগানো যেতে পারে । বরেন্দ্র এলাকায় এখন ধানের জমিতে মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে ব্যাপক হারে আমগাছ লাগানো হচ্ছে । এমনকি জমির আইলেও অনেক গাছ লাগানো হয় । অনেক জায়গায় আইলে তালগাছ লাগিয়ে বাড়তি লাভ পাওয়া গেছে । তাল ছাড়া খেজুর, সুপারি, বাবলা, বকাইন, জিগা, কড়ই, ইউক্যালিপটাস, পালিত মাদার ইত্যাদি গাছ লাগানো যেতে পারে ।
 
নিচু জমিতেঃ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা দরকার । পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ নিচু জমিতে রোপণ করা যেতে পারে ।
 
পুকুর পাড়েঃ মাটি ভাঙ্গে না এবং শোভাবর্ধন করে যেমন সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, ডালিম ইত্যাদি গাছ লাগানো যায় ।
 
নদীর ধারেঃ পানি সহিষ্ণু, শক্ত মজবুত ও বড় হয় এমন গাছ রোপণ করা উচিত । যেমন- শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, বাঁশ, মূর্তা, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।
 
বিলে লাগানোর গাছঃ বিল এলাকা যেখানে বছরে দু-তিন মাস পানি জমে থাকে সেখানে হিজল, করচ, বিয়াস, পিটালী, জারুল, মান্দার, বরুণ, পলাশ, কদম, চালতা, পুতিজাম, ঢেপাজাম, রয়না বা পিতরাজ, অর্জুন ইত্যাদি গাছ লাগানো যায় ।
 
চরে লাগানোর গাছঃ উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন জেগে ওঠা চরে কেওড়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, গোলপাতা গাছ লাগানো যায় । তবে উপকূলে যেসব চর একটু উঁচু ও স্বাভাবিক জোয়ারের পানি ওঠে না সেসব চরে বাবলা, ঝাউ, সনবলই, সাদা কড়ই, কালো কড়ই, জারুল, রেইনট্রি ইত্যাদি লাগানো যায় । উপকূল ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ঝাউ, লোনাঝাউ, পিটালী, করচ, পানিবিয়াস লাগানো যেতে পারে ।
 
উপকূলীয় অঞ্চলেঃ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, হালকা পাতাবিশিষ্ট গাছ যেমন- সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়াই, বাবলা, নারিকেল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত ।
 
উঁচু পাহাড়ঃ বর্তমানে দেশের অনেক পাহাড়ি জমিতে কমলালেবুসহ বিভিন্ন প্রজাতির লেবু, লিচু, আম, পেয়ারা, গোল মরিচ, আদা, আনারসের সফল বিস্তার ঘটেছে । এছাড়াও তেলসুর, চাপালিশ, চিকরাশি, শিলকড়াই, গর্জন, গামার, সেগুন, ইপিল-ইপিল, বাঁশ, কাজুবাদাম প্রভৃতি কাঠের চাহিদা মেটাতে সহায়ক ।

বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা: চারা লাগিয়ে ফলের আশায় বসে থাকলে হবে না। সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। যেমন- বাগানে পরিচর্যার ফলে ২০ থেকে ৪০ ভাগ ফল বেশি উত্পাদন সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিচর্যার কথা উল্লেখ করা হল-

. চারা রোপণের সাথে সাথে শক্ত কাঠি দিয়ে চারা সোজা করে বেঁধে দিতে হবে;
২. গরু-ছাগলের নাগাল থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা করতে হবে;
৩. চারার গোড়ায় জন্মানো অবাঞ্চিত আগাছা বাড়ন্ত চারার খাবারে ভাগ বসায়, তাই নিয়মিত আগাছা দমন জরুরি;
৪. শীতকালে, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে শুকনো লতাপাতা, খড়, কচুরিপানা দিয়ে চারার গোড়ায় মালচিং করতে হবে;
৫. কোনো চারা দুর্বল, রোগাক্রান্ত বা মারা গেলে ওই জায়গায় আর একটি নতুন সবল চারা লাগাতে হবে;
৬. চারা সোজা রাখা ও নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক রাখতে অবাঞ্চিত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে;
৭. বৃষ্টি না হলে রোপণের পর ঝরণা দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে;
৮. চারার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য রোপণের একমাস পর গোড়ার একফুট দূর দিয়ে নালা তৈরি করে এতে ১০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে;
৯. ফলগাছের বেলায় প্রতি বছর বর্ষার পূর্বে একবার (বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ) ও বর্ষা শেষে (ভাদ্র-অশ্বিন) আর একবার বয়স এবং জাতভেদে পরিমাণমত জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে;
১০. প্রতিবছর ফল পাড়ার পর পুরানো, রোগাক্রান্ত, মরা ডালপালা ছেটে দিয়ে রোদ ও আলো বাতাস চলাচল বাড়িয়ে দিতে পারলে পরের বছর নতুন ডাল পালায় ফুল-ফল বেশি ধরবে;
১১. রোগবালাই পোকামাকড় দমনের জন্য নিকটস্থ কৃষি বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টার বা বন বিভাগের পরামর্শমত ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপযুক্ত ধরন:
  • যে স্থানে গাছ লাগাবেন, সেখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গাছ নির্বাচন করা উচিত।
  • স্থানীয়ভাবে জন্মানো গাছ লাগালে তা পরিবেশের সাথে সহজে মিশে যেতে পারে। 
  • বড় গাছ লাগানোর আগে, ছোট চারাগাছ লাগানো ভালো, যা পরিবেশের সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারবে। 
  • যেসব গাছের ডালপালা সহজে ছাঁটাই করা যায়, সেগুলো সড়ক বা রাস্তার পাশে লাগানোর জন্য উপযুক্ত। 
  • ফল ও ফুলের গাছ লাগানোর জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা উচিত, যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং জল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। 
সারকথা: যেমন জায়গা তেমন গাছ তো হলো। কিন্তু গাছ নির্বাচন করলেই তো সব হয় না। সেগুলো লাগানোর ক্ষেত্রে আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় রেখে লাগানো দরকার। লাগানোর আগে ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। যেমনন্ধ রাস্তার ধারে যতই বলা হোক চম্বল বা গগন শিরীষ ও ইউক্যালিপটাস লাগাতে, যদি সে রাস্তার পাশ দিয়ে বিদ্যুতের তার যায় তাহলে সেখানে তা লাগানো যাবে না। ফসলি জমিকে বেশি ছায়া দিতে পারে এমন গাছ না লাগানো উচিত। পুকুরপাড়ে পাতা ঝরা বৃক্ষ যেমন কাঠবাদাম, শিমুল, মান্দার গাছ লাগানো যাবে না। কাঠগাছের বাগান করলে বেশ কয়েক রকমের গাছ লাগিয়ে মিশ্রভাবে করা ভালো। গাছ বড় না হওয়া পর্যন্ত প্রথম দুবছর গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ফসল চাষ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিল, সরিষা, হলুদ, মুগ ও মাষকলাইয়ের চাষ করা যায়। এর পর থেকে কিছু গাছ কেটে পাতলা করে দিতে হবে এবং বেয়াড়া ডালপালা ছেঁটে গাছকে সোজা ও লম্বাভাবে বাড়তে দিতে হবে। এতে গাছের লগ ভালো হয়, কাঠমূল্য বাড়ে। কাঠের গাছ নির্দিষ্ট বয়সে এলে তাতে সার হয়, কাঠের দাম কয়েক গুণ বাড়ে। তাই বয়স অনুযায়ী সার বানিয়ে গাছ কাটতে হবে, অল্প বয়সী গাছ অযথা কাটা ঠিক নয়। এসব নিয়ম মেনে গাছ লাগালে বেশি লাভ হবে।
সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৃক্ষমেলা, এনজিও নার্সারি, ব্যক্তিগত নার্সারি, বিএডিসির নার্সারি, কৃষি গবেষণার নার্সারিতে ভাল চারা পাওয়া যায়। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য কলমের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। যে কোন পরামর্শের জন্য আপনার নিকটস্থ কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।
আঙিনায় অর্কিড
বিশ্বের দামি ফুলের তালিকায় রয়েছে অর্কিড। গৃহকোণ, ফ্যাশন আসর, বিয়ের বাসর, করপোরেট বৈঠকসবখানেই শোভা বাড়াতে খোঁজ পড়ছে অর্কিডের। বাড়িতে অর্কিডের বসবাসের গল্প জানালেন মারজান ইমু
বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী হলো ড্যানড্রবিয়াম, ফিলোনপসিস, অনসিডিয়াম, ভান্ডা ও মোকারা অর্কিড। বাংলাদেশ অর্কিড সোসাইটির সভাপতি নাসিম ইকবাল জানান, সারা বিশ্বে অর্কিডের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি প্রজাতি আছে। তবে ড্যানড্রবিয়াম, ফিলোনপসিস, অনসিডিয়াম, ভান্ডা ও মোকারা অর্কিডের পরিচর্যা ও ফুল ফোটানো তুলনামূলক সহজ। অর্কিড ফুল ফোটার পর প্রায় মাসখানেক পর্যন্ত সতেজ থাকে। সে কারণে অন্য যেকোনো ফুল থেকে অর্কিডের জনপ্রিয়তা বেশি। ঘরের বারান্দা, ছাদ এমনকি ঘরের ভেতরেও অর্কিড গাছ লাগিয়ে ফুল ফোটানো সম্ভব। এ জন্য দিনের কিছু সময় রোদ ও পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস পাওয়া যায়এমন ঘর বেছে নিতে হয়।
গাছ লাগানোর পদ্ধতি
সঠিকভাবে অর্কিড লাগানোর পদ্ধতি সম্পর্কে আগারগাঁওয়ের বনরূপা নার্সারির পরিচালক শাহ্ আলম জানান, ‘অর্কিডের ফুল ফোটার পর অর্কিড গাছ থেকে পার্শ্বীয়ভাবে সাকার বের হয়। শিকড়সহ সাকার কেটে আলাদা টবে লাগিয়ে নতুন চারা বানানো হয়। এ ছাড়া টিস্যুকালচারের মাধ্যমে তৈরি অর্কিডের চারা কিনতে পাওয়া যায়।  গাছের আকৃতি অনুযায়ী টব বা বাস্কেট নির্বাচন করতে হবে। নারিকেলের ছোবড়া, কাঠকয়লা, ইটের খোয়া ও ঝামার ছোট ছোট টুকরা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এবার ছিদ্রযুক্ত টব বা বস্কেটে গাছ বসিয়ে এসব উপাদান দিয়ে টব ভরে দিতে হবে।খেয়াল রাখুন নারিকেলের ছোবড়া বা ইটের খোয়া যেন খুব বেশি চেপে না থাকে। গাছের গোড়ায় ও শিকড়ে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে।
অর্কিডের মোটা শিকড়, পাতা ও গাছের বাল্বের পানি ও সার ধরে রাখার ক্ষমতা রয়েছে। যেসব অর্কিড গাছের শিকড় সরু, তাদের তুলনামূলক বেশি পানি প্রয়োজন হয়। পানি ও সার দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বাড্ডার গ্রীন হাউস নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. জয়নাল হোসেন জানান, ‘ঘরে বা বারান্দার অর্কিডে ছোট পটে সপ্তাহে তিন দিন ও বড় বা মাঝারি পটে সপ্তাহে দুই দিন পানি দিতে পারেন। সকালবেলা গাছে পানি দেওয়ার উপযুক্ত সময়। সন্ধ্যা বা রাতে গাছে পানি না দেওয়াই ভালো। ফাঙ্গাস বা অন্যসব অসুখ হতে পারে। টবের নিচে একটা প্লেট রাখুন। বাড়তি পানি নিচের প্লেটে জমা হলে ফেলে দিন। পানি যেন কোনোভাবেই টবে জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। জমে থাকা পানিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পুরো গাছ পচে যেতে পারে। খুব বেশি শীতের সময় যখন বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তখন একটি বাটিতে পানি নিয়ে অর্কিড গাছের নিচে বা পাশে রাখুন। পানি বাষ্পায়িত হয়ে অর্কিড পাতাকে আর্দ্রতা দেবে।
তরল সার পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে এক দিন দিতে হবে। অর্কিডের বৃদ্ধি ও ফুল উৎপাদনের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামযুক্ত সার নির্দিষ্ট পরিমাণে পানিতে গুলিয়ে দিতে হয়। চারা বা বাড়ন্ত অবস্থার মাঝামাঝি সময়ে এবং ফুল আসার আগে গাছে সার স্প্রে করতে হয়।
উপযুক্ত সময়:
  • বর্ষাকাল গাছ লাগানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাস বাংলাদেশে গাছ লাগানোর জন্য ভালো। এই সময় বৃষ্টিপাতের কারণে গাছ সহজে মাটিতে শিকড় গেঁথে নিতে পারে এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে।
  • দিনের শেষভাগে অর্থ্যাৎ পড়ন্ত বিকালে গাছ লাগানো ভালো, কারণ এতে রোদ কম থাকে এবং গাছ সহজে তাপমাত্রা মানিয়ে নিতে পারে। 
  • যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম, সেখানে শীতকালে গাছ লাগানোর কথা ভাবা যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে নিয়মিত জল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। 
  • শরৎকালও গাছ লাগানোর জন্য একটি উপযুক্ত সময়, বিশেষ করে আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। 

যত্ন-আত্তি
শুরুতে ঘর সাজানোর জন্য কয়েকটি অর্কিড গাছ কিনেছিলেন ধানমণ্ডির অধিবাসী সালমা বিনতে নূর। এখন তাঁর বাড়িজুড়ে হরেক প্রজাতির শতাধিক অর্কিড। অর্কিডের যত্ন-আত্তি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘প্রথমদিকে জানতাম না। অনেক ভুল হতো। এখন ইন্টারনেটে প্রজাতিভেদে সব ধরনের অর্কিডের তথ্য আছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বইও কিনেছি। অর্কিডের প্রধান শত্রু পানি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি অর্কিডের গাছ মারা যেতে পারে। অর্কিড রাখার পাত্রে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভালো হয় বাঁশের ঝুড়িতে ঝুলিয়ে দিলে। অথবা চিকন রডের তৈরি শেলফেও রাখা যাবে। এতে বায়ু চলাচলে সুবিধা হবে। চারা লাগানোর পর প্রজাতি অনুযায়ী গাছের চারা র্যাকে রাখুন বা লম্বা তার দিয়ে উঁচু জায়গায় ঝুলিয়ে দিন।
অর্কিড গাছের জন্য ছায়া প্রয়োজন। বারান্দা হলো অর্কিড গাছের জন্য সুবিধাজনক জায়গা। ছাদে বা খোলা বাগানে অর্কিড চাইলে আলাদা করে ছাউনি দিতে হবে। এমন স্থানে রাখুন, যেখানে আলো-বাতাস চলাচল করে কিন্তু লোকজনের যাওয়া-আসা কম। দীর্ঘ সময় রোদ বা একেবারে ছায়ায় অর্কিডে ফুল আসে না।সকাল ও বিকেলের নরম রোদ অর্কিড ফুল ফোটার সহায়ক। গাছে পোকামাকড় কিংবা ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব হলে সঠিক মাত্রায় ওষুধ দিন। বছরে একবার টবের উপাদান বদলে নতুন করে গাছ লাগান। অর্কিডের জন্য প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস জরুরি। এসি ঘরে কোনোভাবেই অর্কিড গাছ রাখা যাবে না।
ফুলদানিতে অর্কিড ফুল ঘরের শোভা বাড়ায়। চাইলে পটসহ পুরো গাছ দিয়েও সাজাতে পারেন অন্দরমহল। সে ক্ষেত্রে দুই দিন পর ঘরের গাছ বারান্দায় কয়েক দিনের জন্য রাখতে হবে। কোথায়, কিভাবে অর্কিডের টব রাখবেন, এ বিষয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘সদর দরজার বাইরের দেয়ালে গ্রিলের ফ্রেম করে তাতে ফুলসহ অর্কিডের পট ঝুলিয়ে দিতে পারেন। করিডোরে জুতার র্যাক বা কনসোল টেবিলের ওপর একটি অর্কিডের পট রাখতে পারেন। এক বা একাধিক বিভিন্ন আকৃতির পট রাখলেও ভালো দেখাবে। বসার ঘরে সেন্টার টেবিলে, ঘরে কর্নার স্ট্র্যান্ড থাকলে তার ওপর অর্কিড সাজাতে পারেন। শোবার ঘরে জানালায় অর্কিড ঝুলিয়ে দিলে সাজে নতুনত্ব আসবে। ঘরে রাখা মানিপ্ল্যান্টের সঙ্গে দু-একটি অর্কিডের ফুলের স্টিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে কয়েক গুণ।
উপযুক্ত স্থান:
  • যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়, এমন স্থান নির্বাচন করা উচিত। রোদ গাছের বৃদ্ধি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
  • বন্যামুক্ত এবং আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জায়গা বেছে নেয়া ভালো। 
  • মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে গাছ লাগানো যেতে পারে। 
  • সড়কের পাশে উঁচু এবং সহজে ছাঁটাই করা যায় এমন গাছ লাগানো ভালো, যেমন - রেইনট্রি, মেহগনি, ঝাউ, বকুল ইত্যাদি। 
  • বৈদ্যুতিক তারের নিচে গাছ না লাগানোই ভালো। 
  • ছাদে বাগান করার জন্য টবে গাছ লাগানো যেতে পারে, যা ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
কোথায় লাগাবেন কি গাছ
জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তাই সঠিক স্থানে সঠিক চারা রোপনের সময় জুন, জুলাই ও আগস্ট । জেলা ও উপজেলা বৃক্ষমেলা কিংবা নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করা যায়। সুস্থ, সবল, মধ্যমাকৃতির, পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দেয়া উচিত। এতে ফল, ঔষধ এবং কাঠ সবই পাওয়া যায়। বন্যামুক্ত, আলোবাতাস চলাচল করতে পারে এবং
সূর্যালোক পড়ে এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ, উর্বর, নিষ্কাশনযোগ্য ও উঁচু স্থানে চারা রোপণ করা উত্তম। কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত তা জেনে নেই-
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে- মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশেপাশে শোভাবর্ধনকারী এবং ছায়া দানকারী গাছ যেমন, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃٍচূড়া, আম, কাঁঠাল, লিচু গাছ রোপণ করতে পারেন।
বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে- রোদ ও আলোর জন্য ছোট এবং কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, মেহেদী, গাছ লাগানো যেতে পারে।
বসতবাড়ির পূর্ব-পশ্চিমে- মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল-সـ্যায় বাড়ির আঙ্গিনায় আলো থাকবে। বাউকুল, আপেলকুল, সফেদা, আম্লপালি, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছ।
বসতবাড়ির উত্তরে- বসতবাড়ির উত্তরপাশে বড় ও উঁচু গাছপালা থাকলে ঝড়-তুফান প্রতিরোধ হয়। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, বাঁশ, ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।
পতিত জমিতে- সব ধরনের গাছ যেমন- আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙ্গা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃٍচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি।
হাট-বাজারে- ছায়দানকারী গাছ রোপণ করা উচিত। আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃٍচূড়া, বটগাছ রোপণ করা উচিত।
রা¯-ার পাশে- উঁচু, ও ডালপালা ছাঁটাই করা যায় এমন গাছ রোপণ করা দরকার। মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃٍচূড়া, বাবলা, ইপিল ইপিল, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।
রেল লাইনের পাশে- মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যায়।
বাঁধের ধারে- শেকড় শক্ত এবং বি¯-ৃত এমন গাছ যেমন বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমণি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর ইত্যাদি গাছ রোপণ করা দরকার।
জমির আইলে- যেসব গাছের শেকড় কম বিত্বত কম ছায়াদানকারী, ডালপালা ছাঁটাই করা যায় যেমন- মেহগনি, দেবদারু ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে হবে।
নিচু জমিতে- জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এমন গাছ রোপণ করা দরকার। পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি গাছ নিচু জমিতে রোপণ করা যেতে পারে ।
পুকুর পাড়ে- মাটি ভাঙ্গে না এবং শোভাবর্ধন করে যেমন সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, ডালিম ইত্যাদি গাছ লাগানো যায়।
নদীর ধারে, শক্ত মজবুত ও বড় হয় এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন- শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, বাঁশ, মূর্তা, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।
উপকূলীয় অآলে- লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে, হালকা বাতাবিলেবুর গাছ যেমন- সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়াই, বাবলা, নারিকেল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা উচিত ।
সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৃক্ষমেলা, এনজিও নার্সারি, ব্যক্তিগত নার্সারি, বিএডিসির নার্সারি, কৃষি গবেষণার নার্সারিতে ভাল চারা পাওয়া যায়। দھত ফল পাওয়ার জন্য কলমের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। যে কোন পরামর্শের জন্য আপনার নিকটস্থ কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন ।
অন্যান্য বিষয়াবলী:
  • গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যেমন - জল দেওয়া, সার দেওয়া, এবং রোগ-পোকামাকড় থেকে গাছকে রক্ষা করা।
  • নতুন গাছ লাগানোর সময়, পুরনো গাছের চারপাশের জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত, যাতে নতুন গাছ সহজেই বেড়ে উঠতে পারে।
  • গাছ লাগানোর পর, নিয়মিতভাবে তার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। 

Post Bottom Ad

WhatsApp Icon কি জানতে চান ?

শিরোনাম

শিরোনাম লোড হচ্ছে...
Contact Us
f
Facebook
YouTube
in
LinkedIn
📷
Instagram