.jpg)
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল দক্ষতা নয়, সফট স্কিলও
সমানভাবে জরুরি । জেনে নিন ক্যারিয়ারে সফল হতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি সফট স্কিল
।
ব্যবসার জগতে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কর্মীদের খুঁজছে, যাদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত
দক্ষতার পাশাপাশি সারা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা আরো কিছু দক্ষতাও থাকে, যেগুলোকে
সফট স্কিল বলা হয় । এই স্কিলগুলো মূলত মানুষের এমন কিছু ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, যা অন্যদের
সঙ্গে সফলভাবে কাজ করতে ও সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে । আরো ব্যাখ্যা করে বললে, এগুলো
মানুষের আচরণ ও আবেগীয় বুত্তিমত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ।
এসব দক্ষতাই একজন নির্বাহী, নেতা বা ম্যানেজারকে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে, অন্যদের
ইতিবাচকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করে ।
এমনকি, এসব দক্ষতার মাধ্যমে এমন সব নেতিবাচক প্রবণতা এড়ানো যায়, যা নিজের পেশাগত
দিককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে ।
এই দক্ষতাগুলোকে সঙ্গায়িত করা কঠিন হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এগুলোর প্রভাব সত্যিই
আছে । কারণ দিনশেষে ব্যবসার দুনিয়াটাই এমন, যা ক্রমাগত পরিবর্তনের মাঝ দিয়ে যায় এবং
বাজারের নিত্যনতুন চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয় ।
বর্তমান যুগে শুধুমাত্র ডিগ্রি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান চাকরিতে সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট
নয় । নিয়োগদাতারা এখন কর্মীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং মানসিক
বুদ্ধিমত্তার মতো সফট স্কিলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । নিচে এমন ১৭টি সফট স্কিল তুলে
ধরা হলো, যা কর্মক্ষেত্রে আপনাকে আলাদা পরিচিতি দেবে ।
১. যোগাযোগ
দক্ষতা (Communication Skills)
স্পষ্টভাবে
কথা বলা, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং কার্যকরভাবে লিখিতভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা সফল পেশাজীবনের
মূল ভিত্তি ।
২. দলগত কাজের
দক্ষতা (Teamwork)
দলবদ্ধভাবে
কাজ করা, সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং যৌথভাবে লক্ষ্যপূরণ করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের
জন্য অপরিহার্য।
৩. নেতৃত্ব
(Leadership)
একজন দক্ষ
নেতা কেবল নির্দেশনা দেন না, বরং দলকে অনুপ্রাণিত করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেন এবং সমস্যা
সমাধানে এগিয়ে আসেন ।
৪. সময় ব্যবস্থাপনা
(Time Management)
সময়কে সঠিকভাবে
পরিকল্পনা করে কাজে লাগাতে পারা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং কাজের মান উন্নত করে ।
৫. সমস্যা
সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving)
অপ্রত্যাশিত
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কার্যকর সমাধান বের করতে পারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সম্পদ ।
৬. সৃজনশীলতা
(Creativity)
উদ্ভাবনী চিন্তা
ও নতুন আইডিয়া তৈরি করার ক্ষমতা ব্যবসার উন্নয়ন ও টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিত করে ।
৭. অভিযোজন
ক্ষমতা (Adaptability)
বাজার ও প্রযুক্তির
পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারা দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গড়তে সহায়ক ।
৮. সমালোচনামূলক
চিন্তাভাবনা (Critical Thinking)
তথ্য বিশ্লেষণ,
যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের দক্ষতা নিয়োগদাতারা বিশেষভাবে খুঁজে থাকেন
।
৯. আবেগীয়
বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence – EI)
নিজের আবেগ
নিয়ন্ত্রণ ও অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা টিমওয়ার্ক এবং নেতৃত্বে কার্যকর ভূমিকা রাখে
।
১০. নেটওয়ার্কিং
(Networking)
পেশাগত সম্পর্ক
তৈরি ও বজায় রাখা ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে ।
১১. প্রেজেন্টেশন
দক্ষতা (Presentation Skills)
জটিল তথ্য
বা আইডিয়া সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারা কর্মক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম
।
১২. সিদ্ধান্ত
গ্রহণের ক্ষমতা (Decision Making)
সঠিক সময়ে
সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারা একজন পেশাজীবীর গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা।
১৩. দ্বন্দ্ব
সমাধান (Conflict Management)
মতবিরোধ বা
বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে পারা টিম পরিবেশকে ইতিবাচক রাখে ।
১৪. কাজের
নীতি ও পেশাদারিত্ব (Work Ethics & Professionalism)
দায়িত্বশীলতা,
সততা ও প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুসরণ পেশাগত সাফল্যের মূল শর্ত ।
১৫. শেখার
মানসিকতা (Willingness to Learn)
নতুন কিছু
শেখার আগ্রহ এবং নিজেকে আপডেট রাখার মানসিকতা একজন কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত
করে ।
১৬. প্রভাবিত
করার ক্ষমতা (Influencing & Persuasion)
সহকর্মী বা
ক্লায়েন্টকে আপনার ধারণা গ্রহণ করাতে পারা ব্যবসায়িক সাফল্যে সহায়ক ।
বহুজাতিক বা
বৈচিত্র্যময় কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অপরিহার্য
।
১৭. সাংস্কৃতিক
সচেতনতা (Cultural Awareness)
এই দক্ষতাগুলো
কি দেখানো সম্ভব?
অনেক দশক ধরেই প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে থাকা জ্ঞান কর্মী
নিয়োগের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই বিষয়গুলোকে
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, সুপারিশপত্র ও পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রমাণ করা
যায় ।
এ
ছাড়া নিজেকে আরো ভালোভাবে জানার জন্য সেস্ফ-ডায়াগনোসিস বা আত্মমূল্যায়নের পরামর্শ
দেওয়া হয়। নিয়োগকর্তারাও প্রার্থীদের সফট স্কিল মূল্যায়নে এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার
করতে পারেন ।
সফট স্কিল
বাড়ানোর উপায়
সফট স্কিল বাড়াতে নিয়মিত নিজেকে আপডেট করাটা গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে কোনো
কর্মশালা, সেমিনার বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে ।
সমালোচনামূলক
চিন্তার দক্ষতা গড়ে তোলা ও নিজেকে জানার জন্য আত্মবিশ্লেষণ করা জরুরি । ব্যক্তিগত
ও পেশাগত উন্নতির জন্য নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বিশেষজ্ঞ
স্টিফেন আর. কভি বলেন, ‘একজন দক্ষ পেশাজীবী ও অসমান্য নেতার মধ্যকার মূল পার্থক্য
সফট স্কিল। সফট স্কিল বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা অন্যদের সঙ্গে গভীর ও আন্তরিকভাবে
সংযোগ স্থাপন করতে পারি । এগুলো আমাদের অন্যদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ও
কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করে ।’