পাথর কুঁচি পাতা
আমাদের আশেপাশে খুব সহজলভ্য একটি ভেষজ উদ্ভিদ, যার রয়েছে অসাধারণ ১৫টি ওষুধি গুণ। জানুন
কীভাবে এটি বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে উপকারী ।
পাথরকুচি ঔষধি উদ্ভিদ । দেড় থেকে দুই ফুট
উঁচু হয় । পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের
মতো ।
চারপাশে আছে ছোট
ছোট গোল খাঁজ । এই খাঁজ থেকে নতুন
চারার জন্ম হয় । অনেক সময় গাছের বয়স
হলে ওই গাছের খাঁজ থেকে চারা গজায় । পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই অনায়াসে চারা পাওয়া যায় । কাঁকর মাটিতে সহজেই
জন্মে, তবে ভেজা, স্যাঁতসেঁতে জায়গায়
দ্রুত বাড়ে । পাতা থেকে এ গাছ জন্ম
নেয় ।
আসুন জেনে নিই পাথরকুচির ঔষুধি গুণসমূহঃ
মেহ: সর্দিজনিত কারণে
শরীরের নানান স্থানে ফোঁড়া দেখা দেয় । যাকে মেহ বলা হয় । এ ক্ষেত্রে পাথরকুচির পাতার রস এক চামুচ করে সকাল-বিকাল একসপ্তাহ
খেলে উপকার পাওয়া যায় ।
সর্দিঃ
সর্দি পুরান হয়ে
গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি
বিশেষ উপকারী । পাথরকুচি পাতা রস
করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে
হবে । তিন চা-চামচের সাথে ২৫০
মিলিগ্রাম যেন হয় । তা থেকে দুই চা
চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া
যাবে ।
কাটাকাটিতেঃ
টাটকা পাতা পরিমাণ
মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায় ।
রক্তপিত্তঃ
পিত্তজনিত ব্যথায়
রক্তক্ষরণ হলে দু’বেলা এক চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস দুদিন খাওয়ালে সেরে যাবে ।
পেট ফাঁপাঃ
অনেক সময় দেখা যায়
পেটটা ফুলে গেছে, প্রসাব আটকে আছে, আধোবায়ু, সরছে না, সেই ক্ষেত্রে একটু
চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথর কুচির পাতার রস গরম করে সিকি কাপ পানির সাথে মিশিয়ে
খাওয়াতে হবে । এর দ্বারা মূত্র
তরল হবে, আধো বায়ুরও নিঃসরণ
হবে, ফাঁপাটাও কমে যাবে ।
শিশুদের পেট ব্যথায়ঃ
শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথর
কুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয় । তবে পেট ব্যথা
নিশ্চিত হতে হবে ।
মৃগীঃ
মৃগী রোগাক্রান্ত
সময়ে পাথর কুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে । একটু পেটে গেলেই
রোগের উপশম হবে ।
শরীর জ্বালাপোড়াঃ
দু-চামচ পাথর কুচি
পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে
মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয় ।
কিডনির পাথর অপসারণঃ
পাথরকুচি পাতা কিডনি
এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে । দিনে দুবার ২ থেকে ৩টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে
খান ।
জন্ডিস নিরাময়েঃ
লিভারের যেকোনো সমস্যা
থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী ।
পাইলসঃ
পাথরকুচি পাতার রসের
সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।
কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত
আমাশয়ঃ
তিন মি.লি. পাথরকুচি
পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার
পাওয়া যায় ।
ত্বকের যত্নঃ
পাথরকুচি পাতায় প্রচুর
পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী । সাথে সাথেই এর
মধ্যে জ্বালাপোড়া
কমানোর ক্ষমতা থাকে । যারা ত্বক সম্বন্ধে
সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা
বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন । ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যাও দূর হয়ে যাবে ।
পোকা কামড়ঃ
বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে
এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায় ।
সতর্কতাঃ
§ যেকোনো ভেষজ চিকিৎসা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।
§ গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাই
ভালো ।
উপসংহারঃ
প্রাকৃতিক চিকিৎসার ভাণ্ডারে পাথর কুঁচি পাতা এক অসাধারণ উপহার । প্রতিদিনের নানা সমস্যায় এই পাতা হতে পারে আপনার ঘরোয়া
চিকিৎসক । স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে আজই ব্যবহার শুরু করুন এবং ভালো থাকুন
প্রাকৃতিকভাবে ।