৮টি সংবেদনশীল বিষয়, যেগুলো নিয়ে শিশুর সঙ্গে কখনোই মজা করবেন না - RANGPUR ICT PARK

Breaking

Home Top MAds ফাঁকা

Post Top Ad

01 August 2025

৮টি সংবেদনশীল বিষয়, যেগুলো নিয়ে শিশুর সঙ্গে কখনোই মজা করবেন না

 


শিশুর সঙ্গে কখনোই ঠাট্টা করা উচিত নয় – এমন ৮টি বিষয়ঃ

ঠাট্টা–তামাশা আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও শিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কিছু স্পর্শকাতর বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে ঠাট্টা করলে শিশুর আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই বাবা-মা ও বড়দের উচিত সতর্ক থাকা, যেন তাদের কথা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়—কমিয়ে না দেয়।
নিচে এমন ৮টি বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলো নিয়ে শিশুর সঙ্গে কখনোই ঠাট্টা করবেন না:
 
১. চেহারা বা বাহ্যিক রূপ
শিশুর গায়ের রং, ওজন, উচ্চতা বা চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা একেবারেই উচিত নয়। এতে তারা হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে, এমনকি ইটিং ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। শিশুর আত্মসম্মান রক্ষায় চেহারা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলা জরুরি।
 
২. সামাজিক দক্ষতা
কোনো শিশু লাজুক বা অন্তর্মুখী হলে তাকে খেপানো উচিত নয়। এতে ‘সোশ্যাল অ্যাংজাইটি’ তৈরি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক দক্ষতা নিয়ে বারবার কটু কথা শুনলে শিশুদের মানসিক স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
 
৩. পরীক্ষার ফলাফল
সব শিশু একরকম ফলাফল করে না। খারাপ রেজাল্ট নিয়ে ঠাট্টা বা অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে শিশু মানসিক চাপে ভুগে, ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটির শিকার হতে পারে। পড়াশোনায় উৎসাহ দিন, কিন্তু কখনোই অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না।
 
৪. ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়
প্রতিটি শিশুর আলাদা আগ্রহ থাকতে পারে—যেমন ছড়া লেখা, কমিকস পড়া বা পুতুল খেলা। এসব নিয়ে খেপানো হলে তাদের আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। বরং আগ্রহকে উৎসাহিত করলে শিশুর সৃষ্টিশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাড়ে।
 
৫. আবেগের বহিঃপ্রকাশ
কান্না, ভয় পাওয়া বা উত্তেজিত হওয়া—এসব শিশুর আবেগের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এসব নিয়ে ঠাট্টা করলে তারা আবেগ দমন করতে শেখে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর আবেগকে গুরুত্ব দিন এবং পজিটিভ উপায়ে প্রকাশে উৎসাহ দিন।
 

৬. শারীরিক সক্ষমতা
খেলাধুলা বা শারীরিক কাজে দুর্বল শিশুদের নিয়ে হাসাহাসি করলে তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। বরং উৎসাহ ও ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট’ দিলে তারা খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রমে আগ্রহী হয়, যা শরীর ও মনের জন্য ভালো।
 
৭. ব্যক্তিগত ভয়
শিশুরা অন্ধকার, পোকামাকড় বা কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে ভয় পেতে পারে। এসব ভয়কে ছোট করে দেখা বা নিয়ে হাসাহাসি করলে তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ (ক্রনিক অ্যাংজাইটি) তৈরি হতে পারে। ভয়কে গুরুত্ব দিন এবং সহমর্মিতা দেখান।
 
৮. শেখার সমস্যা
কিছু শিশু ডিসলেক্সিয়া, ADHD বা অন্যান্য শেখার সমস্যায় ভুগতে পারে। এসব নিয়ে ঠাট্টা করলে তাদের আত্মমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শিশুর উপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


শেষ কথা
শিশুদের সঙ্গে ঠাট্টা করার আগে ভেবে নিন, কথাগুলো তার আত্মবিশ্বাস গড়বে নাকি ভেঙে দেবে। ভালোবাসা, উৎসাহ ও ইতিবাচক কথাবার্তাই শিশুর সুস্থ বিকাশের মূল চাবিকাঠি।




Post Bottom Ad

WhatsApp Icon কি জানতে চান ?

শিরোনাম

শিরোনাম লোড হচ্ছে...
Contact Us
f
Facebook
YouTube
in
LinkedIn
📷
Instagram